বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিসের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি ও তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা
দি নিউজ লায়নঃ বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিসের অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি ও তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থার ও আশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিসের বিরুদ্ধে। জানা যায়, তল্লাশির সময় কেউই পুলিসের পোশাকে ছিলনা। তল্লাশিতে বর্ধমান থানার এক পুলিস কর্মীও ছিলেন। এনিয়ে পুলিস সুপারের কাছে নালিশ জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি। এসপিকে লেখা চিঠিতে অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি মোল্লা সফিকর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ ৫-৬ জন পুলিস পরিচয় দিয়ে তাঁর শিবপুর-দিঘিরপাড়ের বাড়িতে আসে।
তাঁরা নিজেদের অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিসের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। তারা কেউই পুলিসের পোশাক পরে ছিল না। তল্লাশির নামে বাড়ির জিনিসপত্র তারা লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এনিয়ে জিজ্ঞাসা করায় অর্থ তছরুপের একটি মামলার তদন্তের জন্য তারা তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানায়। স্থানীয় পুলিসকে ডাকার জন্য তাদের বলি। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে বর্ধমান থানার পুলিস বলে পরিচয় দেয়। তারও পোশাক ছিল না। পুলিসের নাম করে দুষ্কৃতিরা তাঁর ঘরে আপত্তিকর জিনিসপত্র রেখে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
পাশাপাশি তাঁকে বেশকিছু আপত্তিকর প্রশ্ন করা হয়। ৮০ বছর বয়সে এ ধরণের হেনস্থায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে চিঠিতে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর ছেলে মহম্মদ ইমতিয়াজ রহমান মোল্লা বলেন, আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে হেনস্থা করা হয়েছে। কি কারণে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিস আমাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাল তা বুঝতে পারছি না। তল্লাশির কোনও কাগজপত্রও তাঁরা দেখায় নি। তল্লাশির ব্যাপারে আদালতের নির্দেশও তাঁরা দেখাতে পারেনি।
বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। তাঁদের উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ছেলে ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান থানায় নালিশ জানিয়েছেন। বর্ধমান থানার আইসি পিন্টু সাহা সাংবাদিককে বলেন, সরকারের ২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিসের একটি দল এখানে তদন্তে আসে। বর্ধমান থানার সাহায্য চায় তদন্তকারী দলটি। সেইমতো বর্ধমান থানার এক পুলিসকর্মীকে তাঁদের সঙ্গে পাঠানো হয়। হেনস্থার বিষয়ে কিছু জানা নেই। অভিযোগ জানালে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment